অনৈতিক মাছ চাষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ-প্রধানমন্ত্রীর

P Mন্যাশনাল ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নদী, খাল ও অন্যান্য প্রাকৃতিক জলাশয়ের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে মৎস্য চাষের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, কিছু ব্যক্তি সুন্দরবনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নদী, খাল ও অন্যান্য প্রাকৃতিক জলাশয়ে অনৈতিকভাবে মাছ চাষ করছে। এটা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। কোন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আমাদের নদী ও জলাশয়গুলো ধ্বংস করছে, এটা আপনাদের দেখতে হবে এবং তারা যে-ই হোক না কেনো তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
আজ বুধবার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অডিটোরিয়ামে মৎস্য সপ্তাহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণকালে এ নির্দেশ দেন। মৎস্য অধিদপ্তর আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ সায়েদুল হক। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিনা আফরোজ ও মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ আরিফ আজাদ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী গণভবন পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। মৎস্য খাতের ব্যাপক সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করতে ‘সাগর নদী সকল জলে, মাছ চাষে সোনা ফলে’Ñ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে এ বছরের ২০১৫ মৎস্য সপ্তাহ গতকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ক্যাপিটাল ড্রেজিং এর মাধ্যমে সকল নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে আমরা অনেকগুলো নদী আমরা ড্রেজিং করেছি। গড়াই ও মধুমতি নদী ড্রেজিং করেছি। যমুনা নদীও আংশিক ড্রেজিং হয়েছে এটা যেন অব্যাহত থাকে। এভাবে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি নদীতে প্রথমে ক্যাপিটাল ড্রেজিং, এরপর প্রতিবছর মেইনটেন্স ড্রেজিং করতে হবে। এটা একান্ত ভাবে প্রয়োজন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, নৌপথগুলোর নাব্যতা রক্ষার জন্য যেমন ড্রেজিং করা হচ্ছে, পাশাপাশি মৎস্য সম্পদের জন্যও এটা গুরুত্বপূর্ণ। যদি আমরা সঠিক ভাবে করতে পারি একদিকে যেমন লবণাক্ততার হাত থেকে দেশ রক্ষা পাবে অন্যদিকে নদীর নাব্যতা বাড়বে। আমরা নৌপথ গুলো ব্যবহার করতে পারবো সেই সাথে আমরা আমাদের মৎস্য সম্পদ আরো বৃদ্ধি করতে পারবো। মাছে ভাতে বাঙালি’র চিরায়ত পরিচয়কে সমুন্নত রাখতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও দেশপ্রেম নিয়ে কাজ করতে মৎস্যখাতের প্রতিটি সদস্যের প্রতি আহ্বানও জানান তিনি।
মৎস্যখাতে নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের সফলতার চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের (মৎস্য খাত সংশ্লিষ্ট) আন্তরিক কর্ম প্রচেষ্টায় আমরা সফলতার সাথে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে যাচ্ছি। এজন্য দেশের সকল মৎসজীবী ও মৎস্য খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আজ প্রায় দেড় কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা মৎস্য সম্পদের সাথে সম্পর্কিত। ১৩ লাখেরও বেশি মানুষের সার্বক্ষণিক পেশা মৎস্য আহরণ। জিডিপিতে মৎস্যসম্পদের অবদান ৪ শতাংশ এবং কৃষিজ জিডিপিতে প্রায় ২২.৬০ শতাংশ। প্রাণিজ আমিষের ৬০ ভাগ যোগান দেয় দেশের মৎস্য খাত।
প্রধানমন্ত্রী মৎস প্রক্রিয়াজাত করার দিকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরো মনোযোগ দেয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, প্রক্রিয়াজাত করণে উন্নত হতে পারলে আমাদের মৎস্য রপ্তানি বাড়বে, পাশাপাশি দেশেও বাজার বাড়বে। সারা বিশ্বে মৎস রপ্তানির বিশাল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সারা বিশ্ব এখন মাছকে সবচেয়ে বেশি পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার হিসেবে গ্রহণ করছে। এটা আমাদের জন্য বিশাল সুযোগ। আমাদের শুধু উদ্যোগের প্রয়োজন। জলাধারগুলোকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে ও সঠিক ভাবে মৎস্য প্রক্রিয়াজাত করতে পারলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে আমরা প্রচুর মাছ রপ্তানি করতে পারবো। চিংড়ি রপ্তানিতে অসাধু উপায় অবলম্বন না করার নির্দেশ দিয়ে তিনি ব্যবসায়ীদের বলেন, অসাধু উপায় অবলম্বন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাছাড়া এতে আমাদের রপ্তানি বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মিঠা পানিতে মাছ চাষ বাড়ানোর পাশাপাশি গভীর সমুদ্র থেকে মৎস্য সম্পদ সংগ্রহের উদ্যোগ নিতে বলেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি জাটকা, ডিমওয়ালা ইলিশসহ সকল প্রকার পোনা মাছ ও ডিমওয়ালা মাছ সংগ্রহ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন জেলেদের। এক্ষেত্রে সবাইকে নিয়ম মেনে চলার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

খাগড়াছড়ি নিউজ/এবিনি/শাই/তাং-২৯-০৭-১৫ইং-॥

মতামত...