আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে

khagrachari

Photo courtesy: banglanews

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে বর্তমান সরকার আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়নি। তবে আদিবাসীরা এখনো সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি থেকে পিছিয়ে আসেনি। এ দাবি দিন দিন আরো বেগবান হচ্ছে। শনিবার খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতি ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিশ্ব আদিবাসী দিবস উপলক্ষে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।

সনাক খাগড়াছড়ির সভাপতি ড. সুধীন কুমার চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারত প্রত্যাগত শরণার্থী বিষয়ক ট্রাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, সংবিধান সংশোধনের সময় পার্বত্য এলাকার তিন এমপি সহ প্রগতিশীল বাম রাজনৈতিক দলগুলোর এমপিরা, এমনকি আওয়ামীলীগের অনেক এমপি সংবিধানে আদিবাসীদের স্বীকৃতি প্রদানের দাবি জানিয়েছিলাম। দুর্ভাগ্যজনক হলো, সে দাবি পূরণ করা হয়নি। তারপরও আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি থেকে আমরা এখনো সরে আসিনি। আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়া মানে অন্যান্য জাতির প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা নয়। দেশের উন্নয়ন ও স্বার্থ রক্ষায় আদিবাসীদের সংস্কৃতি কৃষ্টি ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরী।

সভায় বক্তারা আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন দলিলে, চুক্তিতে পার্বত্যাঞ্চল বিশেষ উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চল হিসেবে স্বীকার করা হয়েছে। সেখানে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে সমস্যা থাকার কথা নয়। বক্তারা বলেন, সরকারের নির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকার কারনে অফিস আদালতে আদিবাসীদের পরিচয় বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। দেশের ৪৫টি আদিবাসীদের ভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা প্রচলনের দাবি জানানো হয়।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক বোধিসত্ত দেওয়ান, সাবেক খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মারমা উন্নয়ন সংসদের সভাপতি সাথোঅং মারমা, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমা, বাংলাদেশ ত্রিপুরা উন্নয়ন সংসদের সাধারণ সম্পাদক বিবিসুৎ ত্রিপুরা, উন্নয়নকর্মী শেফালিকা ত্রিপুরা, মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা প্রমুখ।

খাগড়াছড়ি নিউজ/এনএম/৮আগস্ট, ২০১৫ইং।।

মতামত...