আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে, অন্যথায় রাজপথে দূর্বার আন্দোলন

Bandarban Pic-2মো: শাফায়েত হোসেন, বান্দরবান ।। আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে, অন্যথায় রাজপথে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুশিঁয়ারী দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কে এস মং মারমা। আজ রবিবার সকালে বান্দরবানের স্থানীয় রাজার মাঠে আন্তর্জাতিক আদিবাসি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। তিনি আরও বলেন, আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি আদিবাসী জনগোষ্ঠীদের ন্যায্য অধিকার। রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে স্বীকৃতি আদায়ে সরকারকে বাধ্য করা হবে। সাংবিধানিক স্বীকৃতি না দেওয়ায় এ অঞ্চলের আদিবাসীরা উন্নয়নের স্রোতধারা থেকে অদ্যবদি বঞ্চিত। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির দীর্ঘ ১৮ বছর অতিবাহিত হলেও চুক্তির মৌলিক ধারাগুলো এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। চুক্তি বাস্তবায়নের নামে সরকার তালবাহানা করছে বলেও বলেন তিনি।

এর আগে বেলা ১১টায় রাজার মাঠ থেকে আর্ন্তজাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপন কমিটির ব্যানারে পাহাড়ী সংগঠনগুলো ও পাহাড়ী সম্প্রদায়ের লোকেরা আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবীতে শহরে র‌্যালী বের করে। র‌্যালীতে মারমা, চাকমা, ম্রো, বম, ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন পাহাড়ী সম্প্রদায়ের শত শত নারী-পুরুষ অংশ নেয়। র‌্যালীটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে সমাবেশ করে।

Bandarban Pic-1

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সদস্য উ উইন মং জলি’র (জলি মং) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যন্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবীদ ক্যশৈ প্রু খোকা, জনসংহতি সমিতি মহিলা দলের সভানেত্রী ওয়াই চিং মারমা, ইউপি চেয়ারম্যান শম্ভু কুমার নাথ, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির বান্দরবান শাখার সভাপতি উছোমং মারমা, সাধারণ সম্পাদক ক্যবা মং মারমা প্রমূখ।

সমাবেশে বক্তারা, শান্তি চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন ছাড়া পাহাড়ের প্রধান সমস্যা ভূমি জটিলতা নিরসন সম্ভব নয়। পার্বত্যাঞ্চলের শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পার্বত্য শান্তি চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়নের দাবী জানান বক্তারা।

পরে রাজার মাঠে পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

খাগড়াছড়ি নিউজ/এনএম/শাই/রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০১৫ইং-।।

মতামত...