সর্বশেষ— বান্দরবানে পাহাড় ধ্বসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬ : বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক অবনতি

Bandarban Pic-.3মো: শাফায়েত হোসেন, বান্দরবান।।

বান্দরবানের লামা হাসপাতাল এলাকায় পাহাড় ধ্বসে শিশুসহ ৬ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ৩ জন। শনিবার ভোর রাতে উপজেলার হাসপাতাল পাড়া এলাকায় পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষন ও ভারী বৃষ্টির কারণে হাসপাতাল এলাকায় পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটে। এতে ঘরের ভিতরে ঘুমন্ত থাকা অবস্থায় মাটি চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই ৪ জনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন সাগর আহমদ (১৪) আমেনা বেগম (৩০) রোজিনা আক্তার (৩৫) ও তার শিশু সন্তান সাজ্জাদ (১২)।

শনিবার সকালে ফায়ার সার্ভিসকর্মী ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া বশির আহম্মদ (৬০) কে বিকালে এবং তার মেয়ে কিশোরী ফাতেমা বেগম (১৪) সন্ধ্যার দিকে চাপা পড়া মাটির নিচ থেকে মৃত উদ্ধার করেছে সেনা সদস্যরা।

এ ঘটনায় আহতরা হলেন দুলু মিয়া (৭০) এবং জয়তুল বেগম (৬৫)। আহত ৩ জনকে আশংকা জনক অবস্থায় উদ্ধার করে মালুমঘাট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ২ জন একই পরিবারের সদস্য।

পাহাড় ধ্বসের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা, সদস্য কাজী মজিবুর রহমান, জহির উদ্দিন, লামা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান থোয়াইনু অং চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালেদ মাহমুদ এবং আইনশৃঙ্খলাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাসহ উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ।

লামা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ রবিউল জানান, বৃষ্টির কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে। পাহাড় ধ্বসে চাপা পড়া আটজনের মধ্যে চারজনের লাশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এ দূর্ঘটনায় ২ জন নিখোঁজ ছিল। বিকাল ৩ টায় নিখোঁজ বশির আহম্মদ এবং সন্ধ্যায় ফাতেমার লাশও উদ্ধার করা হয়েছে।

অপরদিকে পাহাড়ী ঢলে ও প্রবল বর্ষণে বান্দরবান, থানছি ও রুমা উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির মারাত্বক অবনতি হয়েছে। রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল। মানুষের সাধারণ যাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

DSC01079জেলা শহরের সাথে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ ২য় দিনের মত বিচ্ছিন্ন রয়েছে। নতুন করে তৃতীয় দফার এই বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে দুর্গম পাহাড়ী জনপদের হাজার হাজার মানুষ। সাঙ্গু নদীর পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলা শহরের ইসলামপুর, শেরে বাংলা নগর, কাশেম পাড়া, আর্মীপাড়া, মেম্বার পাড়া, হাফেজঘোনা, মধ্যমপাড়া, উজানী পাড়া, ভরাখালী, পুলপাড়াসহ ৩০টি গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। পর পর ৩ দফা বন্যায় মানুষের সাধারণ জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

বান্দরবান পৌরসভার মেয়র জাবেদ রেজা জানান, আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে চাল, শুকনো খাবারসহ বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

খাগড়াছড়ি নিউজ/এসএইচ/শাই/১লা আগস্ট,২০১৫ইং।।

মতামত...