এইচএসসির ফল বিপর্যয়ের কারণ শুধু হরতাল-অবরোধই নয়

wUtH5t60TCXmনিউজ ডেস্ক।।

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল বিপর্যয়ের জন্য সরকার হরতাল-অবরোধকে দায়ী করলেও অপরাজনীতি, যোগ্য শিক্ষক সংকট, প্রযুক্তি আসক্তি, প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রবণতা, পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নামের নতুন একটি বিষয় অর্ন্তভূক্তিসহ বেশ কয়েকটি বিষয়কে দায়ী করেছেন পরীক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ।

রোববার (9 august) প্রকাশিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গতবারের তুলনায় এবার পাসের হার ছিলো ১০ শতাংশ কম।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে এই ফল বিপর্যয়ের বিষয়ে পরীক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের করা মন্তব্যে হরতাল-অবরোধ ছাড়াও অপরাজনীতি, প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রবণতা, পরীক্ষা পদ্ধতি ও পাঠক্রমে বারবার পরিবর্তন, কোনো কোনো বোর্ডে প্রশ্নপত্র কঠিন করা এবং অতিমাত্রায় প্রযুক্তি আসক্তির মতো বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

তবে এবারের ফলাফলেই প্রকৃত মেধাবীরা মূল্যায়িত হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে। ‘আসলে এটাকে ফল বিপর্যয় বলা যাবে না’ বলে মন্তব্য করেছেন সৈকত নামের এক ব্যক্তি। প্রকৃত মেধাবীরাই এবার পাস করেছে ও জিপিএ ৫ পেয়েছে বলে মন করেন তিনি।

 

 

 

সরকারের পক্ষ থেকে হরতাল অবরোধকে এবারের ফল বিপর্যয়কে মূল কারণ বলা হলেও মন্তব্যকারীদের বেশিরভাগই এ বক্তব্যের সাথে একমত নন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন এসএসসি পরীক্ষার সময়ও হরতাল অবরোধ ছিলো অথচ পাসের হারে এইচএসসির মতো ধ্স নামেনি।

বিল্লাল হোসেন নামের একজন প্রশ্ন রাখেন, “এসএসসির সময় হরতাল অবরোধ থাকলেও ফল বিপর্যয় হয়নি, তাহলে এইচএসসি’র সময় দেশে স্বাভাবিক পরিস্থিতি থাকলেও কেন এই ফল বিপর্যয়?”

এবারের ফলাফলে সবচেয়ে বেশি বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে যশোর বোর্ড। এ বোর্ডটির খারাপ ফলাফল সম্পর্কে জেড. এ রাসেল নামের এক শিক্ষার্থী বলেছেন,‘এই বোর্ডেও প্রশ্ন সবসময় সবচেয়ে কঠিন হয় এবং খাতাও দেখা হয় বেশ কঠোর ভাবে। এ জন্যই এ বোর্ডে রেজাল্ট বরাবর খারাপ হয়ে আসছে’।

পরীক্ষা পদ্ধতি ও পাঠক্রমে ঘন ঘন পরিবর্তন এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নামে একটি বিষয়ের অন্তর্ভূক্তি এবং নতুন বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকটকেও দোষ দিলেন অনেকে।

পথ ভোলা পথিক নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে মন্তব্য করা হয়েছে, ‘বারবার পাঠক্রম পরিবর্তন করা হয়েছে। এছাড়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নামের একটি সম্পূর্ণ নতুন বিষয় অন্তর্ভূক্ত হলেও কলেজগুলোতে এ বিষয় পড়ানোর জন্য কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এক বছর আগে পড়ে আসা পদার্থ প্রথম পত্রের পরীক্ষার আগে বন্ধ দেয়া হয়েছিলো মাত্র ১ দিন’।

রাজনীতি এবং শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটির পাশাপাশি ফেসবুকে করা মন্তব্যে অনেকেই ফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে দায়ী করেছেন প্রযুক্তি আসক্তিকে। এক্ষেত্রে মন্তব্যকারীদের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো প্রযুক্তি পরিবারের এক নম্বর আসামি ফেসবুক। মো: ফেরদৌস সরকার নামের একজন কমেন্টে লিখেছেন,‘ শিক্ষার্থীরা সারারাত ফেসবুক আর মোবাইলে ব্যস্ত। এমনকি পরীক্ষার আগের রাতেও’।

ফেইসবুক পেইজে ফল বিপর্যয়ের সমালোচনার পাশাপাশি এবারের ফলাফল নিয়ে সন্তুষ্টি ও শিক্ষার্থীদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণাও জানিয়েছেন কয়েকজন।

শরীফ আহমেদ নামের অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন,‘ রেজাল্ট নিয়ে আপনার ছেলে-মেয়েকে প্রেসার দিবেন না, খেয়াল রাখবেন এটা যেনো আপনার সন্তানের জীবনে কাল না হয়ে দাঁড়ায়’।

শিক্ষার্থীদের সব ভুলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জানিয়ে তিনি লিখেছেন,‘ রেজাল্টের জন্য জীবন উৎসর্গ করার কিছু নাই, রেজাল্টের চেয়ে জীবন মূল্যবান’।

খাগড়াছড়ি নিউজ/চ্যানেল আই অনলাইন/এনএম/সোমবার;১০ আগস্ট,২০১৫ইং।।

মতামত...