এমএন লারমা’র ৩৩ তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ; খাগড়াছড়িতে নানা আয়োজনে পালিত

mn-larma-jpegমো. শাহরিয়ার ইউনুস॥ পার্বত্য চট্রগ্রাম জনসংহতি সমিতির(জেএসএস) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, তথাকথিত সশস্ত্র শান্তিবাহিনীর প্রধান ও বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদের পার্বত্য চট্রগ্রাম-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সাংসদ মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ৩৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন, এক মিনিট নীরবতা পালন ও শোকসভার মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়িতে এমএন লারমার ৩৩তম মৃত্যবার্ষিকী পালন করছে জেএসএস’একাংশ ও তার সমর্থিত নেতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার(১০ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা শহরের চেঙ্গী স্কোয়ারে এমএন লারমার স্মৃতি ভাস্কর্য্যে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে সেখানে এক মিনিট নিরবতা পালন শেষে শোক সভা আয়োজন করা হয়।

পার্বত্য চট্রগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) এমএন লারমা সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমর সিং চাকমার সঞ্চালনায় শোক সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি সুধাসিন্ধু খীসা।

জেএসএস’র জেলা শাখার সভাপতি প্রীতিময় চাকমার সভাপতিত্বে এসময় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক দীপু রঞ্জন চাকমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পূণ্য কিশোর চাকমা প্রমূখ।

প্রসঙ্গত, মানবেন্দ্র নারয়ণ লারমা, ডাক নাম মঞ্জু। ১৯৩৯ সালেরর ১৫ সেপ্টেম্ব রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচর থানার বুড়িঘাট মৌজার মাওরুম এ জন্ম। শিক্ষা জীবন শেষ করে ১৯৬৬ সালে খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক পদে যোগদান পরে ১৯৬৮ সালে চট্রগ্রাম রেলওয়ে কলোনী হাইস্কুলে প্রধান শিক্ষক ও ১৯৬৯ সালে চট্রগ্রাম বার এসোসিয়েশনের আইনজীবি হিসেবে যোগ দেন।

এমএন লারমা ১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্থান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯ ৭২ সালের ১৫ ফেব্রæয়ারী তিনি ১১টি উপজাতীয় গোষ্ঠীকে সাথে নিয়ে গড়ে তোলেন পার্বত্য চট্রগ্রাম জনসংহতি সমিতি।

১৯৭২ সালের ১৬ ফেব্রæয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের কাছে ৪ দফা সম্বলিত আঞ্চলিক স্বায়ত্ত শাসনের দাবি নামা পেশ করেন। ঐ বছরের ৩১ অক্টোবর বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানে উপজাতীয়দের বাঙ্গালি হিসেবে আখ্যায়িত করার প্রতিবাদে গণ পরিষদ অধিবেশন বর্জন করেন। ১৯৭৩ সালে পার্বত্য চট্রগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের পার্বত্য চট্রগ্রাম-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৪ সালে তিনি বাংলাদেশ সরকারের পার্লামেন্টারি প্রতিনিধি হিসেবে কমন ওয়েলথ সম্মেলনে যোগদেন ইংল্যান্ডে। একই সালে এমএন লারমা বাকসালে যোগদেন। ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট থেকে তিনি আত্মগোপন করেন।

১৯৭৭ সালে এবং ১৯৮২ সালেও মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা পার্বত্য চট্রগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি নির্বাচিতন হন।

অনেকের মতে, ১৯৭৩ সালের ৭ জানুয়ারী গঠন করেন তথাকথিত শান্তিবাহিনী। আন্দোলনের জন্য তিনি মাকর্্্রীয় আদর্শ ধারণ করেছিলেন। তার দলেও সৃষ্টি হয় অর্ন্তদ্বন্ধ এবং ২ টি ধারায় এমএন গ্রুপ ও প্রীতি গ্রুপে ভাগ হয়ে যায়।

১৯৮৩ সালের ১০ নভেম্বর ভোর রাতে বিভেদপন্থী গিরি-প্রকাশ-দেবেন-পলাশ চক্র নামের একটি সশস্ত্র গ্রুপের হাতে ৮ সহযোগীসহ খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার খেদারাছড়ার থুম এলাকায় নিহত হন এমএন লারমা। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৪৪ বছর।

মৃত্যুর ৩৩ বছর পর সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে চলতি বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর (রোববার) প্রয়াত এ নেতার শোক প্রস্তাব গ্রহণ করে জাতীয় সংসদ। শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন সংসদের স্পিকার ড.শিরীন শারমিন চৌধুরী।

৩৩ বছর পর সংসদে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করার কারণ সম্পর্কে জানা যায়, রেওয়াজ অনুযায়ী কোন এমপি মারা গেলে তা সংসদের পরের অধিবেশনের প্রথম দিনে শোক প্রস্তাব আকারে গ্রহণ করা হয়। কিন্তু এমএন লারমা মারা যাওয়ার পর কোনো শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি। যে কারণে তার মৃত্যুর বিষয়টি সংসদের নথিতে নাই। ৫ জানুযারির নির্বাচনে রাঙ্গামাটি থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য উষাতন তালুকদার একটি ডিও লেটার দিয়ে বিষয়টি সংসদের নজরে আনলে এই অধিবেশনে তার মৃত্যুর বিষয়টি শোক প্রস্তাব আকারে গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।

পাহাড়ে জুম্ম জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা জনসংহতি সমিতির বর্তমান নেতা ও পার্বত্য চট্রগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তু লারমার বড় ভাই।
খাগড়াছড়ি নিউজ/বৃহস্পতিবার, ১০ নভেম্বর ২০১৬ইং-॥

মতামত...