এমপি হয়েই সমালোচনার মুখে বাসন্তী চাকমা: অপসারণ দাবিতে রোববার মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক।। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমার অপসারণের দাবি জানিয়ে খাগড়াছড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেছে কয়েকটি বাঙালি সংগঠন। শনিবার সকালে খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে পার্বত্য অধিকার ফোরাম, বৃহত্তর পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদসহ সমমনা কয়েকটি সংগঠন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পার্বত্য অধিকার ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. মাঈন উদ্দীন।

লিখিত বক্তব্যে বাসন্তী চাকমাকে উগ্রসাম্প্রদায়িক আখ্যায়িত করে অভিযোগ করে বলেন, অবৈধ অস্ত্রধারী পাহাড়ি সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে সংরক্ষিত আসনের এই নারী সাংসদ। গত ২৬ ফেব্রুয়ারী জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙালি বিরোধী অসত্য, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট ভাষণ দেন তিনি। বাসন্তী চাকমার দেয়া ভাষণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তাকে প্রকাশ্যে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।

এতে অভিযোগ করে আরও বলা হয়, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমার বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের সেনাবাহিনী ও বাঙালি জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কথিত যে গণহত্যার অভিযোগ উত্থাপন করেছেন তা কল্পনাপ্রসূত, উদ্দেশ্য প্রণোদিত। তিনি আওয়ামী লীগের লেবাস পরিধান করে সংসদে গিয়ে পাহাড়ের অবৈধ অস্ত্রধারী সংগঠন জেএসএস ও ইউপিডিএফের কথিত জুম্মল্যান্ড বাস্তবায়নের ষড়যন্ত্র করছেন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত করে এমপি বাসন্তী চাকমা শপথের লঙ্ঘন করে উগ্রসাম্পদায়িকতার পরিচয় দিয়েছে জাতির সামনে। যা পাহাড়কে পরিকল্পিতভাবে উত্তপ্ত করার ষড়যন্ত্রেরই অংশ।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে সংসদে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজে নিয়োজিত সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিষদাগার ও বাঙালি বিরোধী অপপ্রচারের প্রতিবাদে রবিবার মানবন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাঙালি সংগঠনের নেতারা। দাবি আদায়ে কঠোর কর্মসূচি পালনেরও হুঁশিয়ারী দিয়েছেন তারা।

এসময় পার্বত্য অধিকার ফোরামের খাগড়াছাড়ি জেলা শাখার আহ্বায়ক এস এম হেলাল, পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের জেলা শাখার সভাপতি লোকমান হোসেন, কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মো. সাহাবউদ্দীন, পার্বত্য নারী অধিকার ফোরামের আহবায়ক সালমা আহম্মেদ মৌসহ সমমনা কয়েকটি বাঙালি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে বাঙালি সংগঠনগুলোর অভিযোগ ও অপসারণ দাবির বিষয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোনে জানান, না বুঝে বাঙালি সংগঠনগুলো অহেতুক বিতর্কের সৃষ্টি করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাচাই বাছাই করেই তাকে (বাসন্তী) সাংসদ হিসেবে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছেন। এখানে ভুল বুঝার কোন অবকাশ নেই। প্রথমবারের মত সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন। তাছাড়া নিজেকে অসাম্প্রদায়িক নেত্রী হিসেবেও দাবি করেন সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমা।

অপরদিকে, সংসদে দেয়া বাসন্তী চাকমার বক্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে কড়া সমালোচনা বইছে। বাঙালি সংগঠনগুলোর বিভিন্ন পেইজে বাসন্তীকে নিয়ে নানা কথা ও মন্তব্য উঠে আসলেও ঐতিহ্যবাহী পোশাক পড়ে সংসদে দাঁড়িয়ে পাহাড়ের কথা তুলে ধরার জন্য চাকমা সম্প্রদায়ের কয়েকটি ব্যাক্তিগত আইডি ও গ্রুপ পেইজে তাকে সাধুবাদ জানানো হয়েছে।

এছাড়া সাধারণ মানুষের মুখে লেগেই আছে বাসন্তীর দেয়া বক্তব্যের কথা। কেউ কেউ বলছেন প্রথমবারের মত এমপি হয়েই বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন তিনি। যা অতীতে পাহাড়ের নির্বাচিত অনেক সংসদ সদস্যই বলার সাহস দেখাননি। কিন্তু নারী সংসদ সদস্য হিসেবে জাতীয় সংসদে যোগ দিয়ে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ও বাঙালিদের সেটেলার হিসেবে আখ্যায়িত করে যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতেই প্রমাণ করে তিনি অবৈধ অস্ত্রধারী পাহাড়ি সংগঠনগুলোর সাথে একাত্মতা প্রকাশের বহি:প্রকাশ বলে মনে করেন কেউ কেউ।

খাগড়াছড়ি নিউজ/এস/শনিবার, ০২ মার্চ ২০১৯ইং-।।

মতামত...