কর আরোপ ছাড়াই খাগড়াছড়ি পৌরসভার প্রায় ৭৪ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক।। নতুন করে কোনও কর আরোপ ছাড়াই খাগড়াছড়ি পৌরসভার ২০১৯-২০ অর্থবছরের উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। বিকালে পৌরসভা কার্যালয়ের মিলনায়তনে নতুন অর্থবছরের বাজেট তুলে ধরেন পৌর মেয়র রফিকুল আলম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকারের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) দীপক চক্রবর্তী। এসময় তিনি পৌরসভার চলমান বিভিন্ন কর্মকান্ড ও অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে ১ কোটি ৩৮ লক্ষ নিরানব্বই হাজার ৭’শ ৭৩ টাকা টাকা সমাপনী স্থিতি রেখে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৭২ কোটি ৪১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। এরমধ্যে শহরে নান্দনিক পৌর বাস টার্মিনাল, শিশু পার্ক পৌর মার্কেট নির্মাণ, চেঙ্গী স্কোয়ার হতে কদমতলী পর্যন্ত মেইনরোডের দু’পাশ সম্প্রসারণ কাজকে গুরুত্ব দেয়া হয়ছে।

বাজেটে অন্যান্য উন্নয়ন খাত ব্যতীত পৌরসভার আয়-ট্যাক্সেস, রেইট, ফিস, ইজারা, অন্যান্য উন্নয়ন খাত ব্যতীত রাজস্ব খাতে সরকারি অনুদান, প্রকল্প অনুদান, মূলধন, প্রারম্ভিক স্থিতিসহ সব মিলিয়ে বাজেটে মোট আয় ধরা হয়েছে ৭৩ কোটি ৮০লক্ষ উনষাট হাজার ৭শ’৭৩ টাকা।

এ সময় খাগড়াছড়ি পৌরসভার সচিব পারভীন খন্দকার, নির্বাহী প্রকৌশলী দীলিপ কুমার বিশ্বাস, হিসাবরক্ষক খন্দকার শাহেদ মোহাম্মদ নূর আবেদীনসহ পৌরসভার কাউন্সিলর, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান থেকে গেলো বছরে বন্যায় খাগড়াছড়ি পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতা ও তা নিরসনে পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

বাজেট ঘোষণার শুরুতে খাগড়াছড়ি পৌরসভা একটি সম্ভাবনাময় পৌরসভা উল্লেখ করে পৌর মেয়র বলেন, পৌরসভার সীমিত আয়ের মধ্যে সর্বোচ্চ সেবা প্রদানে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বর্তমানে একটি আধুনিক পর্যটনমূখী, যানজটমুক্ত, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন মডেল পৌরসভা হিসেবে সরকারি ঘোষণার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। এজন্য পৌর নাগরিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মেয়র বলেন, ২০১১ সালে প্রথমবার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর পৌরসভার সীমিত রাজস্ব আয় এবং জনগণের ব্যাপক চাহিদা এ দুই এর মধ্যে সমন্বয় সাধনে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হয়েছে। তবুও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতাসহ পৌর নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করেছি। বর্তমান ৬ষ্ঠ পৌর পরিষদ এ সেবা কার্যক্রমগুলো অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আরো নানামুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় ইউজিপ-৩ প্রকল্পের আওতায় ১৮টি সড়ক, ১৮টি ড্রেন ও ৩৪টি পরিবারের জন্য আবাসন প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। এছাড়া পৌরসভার রাজস্ব তহবিলের আওতায় পৌর ঈদগাহ মার্কেট ও কুমিল্লাটিলা এলাকায় মোবাইল মেইনটেনেন্স ও পৌর গেস্ট হাউজের প্রাক্কলন কাজ শেষ করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে সিঙ্গীনালা ও শান্তিনগর এলাকায় আউটলেট ড্রেন নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রেপ’র আওতায় পৌর হাউজ সংলগ্ন একটি টিম্বার মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া স্যানিটারি ল্যান্ড ফিল্ড নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানানো হয়।

খাগড়াছড়ি পৌরসভা সীমিত আয়ের উপর নির্ভর করে পৌরবাসীর বিশাল চাহিদা পূরণ করতে হচ্ছে মন্তব্য করে পৌর মেয়র বলেন, বিদেশি সাহায্যপুষ্ট প্রকল্পের উপর নির্ভর করে পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হয়েছে।

এসময় সরকারের ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে পৌর এলাকার সকল নাগরিকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন মেয়র রফিকুল আলম।

পরে পৌরসভার পক্ষ থেকে পৌর এলাকার দরিদ্র, মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি। খাগড়াছড়ি নিউজ/এস/বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯ইং।।

মতামত...