খাগড়াছড়িতে আ’লীগ নেতার ফোন না ধরায় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ঢুকে কর্মচারির উপর হামলা!

Khagrachari-chandanস্টাফ রিপোর্টার ॥ মোবাইল ফোন না ধরায় খাগড়াছড়িতে সদর উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক চন্দন দে’র হাতে শারিরীকভাবে লাঞ্চিত হয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কম্পিউটার অপারেটর মো. জাহাঙ্গীর আলম।

বুধবার(৩১ আগস্ট) বিকালে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এঘটনায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মাঝে চাপা ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

অফিস সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের মেইন গেইট থেকে কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর আলমের নাম ধরে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করে ৭/৮ জন লোক নিয়ে ভিতরে ঢুকেন সদর উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক চন্দন দে। এসময় জাহাঙ্গীর আলম অফিসে ল্যাপটপ ও মাল্টিমিডিয়া সরঞ্জামাদি বিতরণ শেষে স্টক মিলানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন। গালাগালি ও চিৎকার শুনে জাহাঙ্গীর আলম কক্ষ থেকে বের হয়ে এলে চন্দন দে ক্ষিপ্ত হয়ে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এতে জাহাঙ্গীর আলমের শার্ট ছিড়ে যায় ও গলায় ব্যাথা পায়। একপর্যায়ে তিনি বাঁচার জন্য চিৎকার করে উঠলে অফিসে থাকা সহকর্মীরা ধস্তাধস্তি করে চন্দন দে’র হাত থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে উদ্ধার করে অফিসের পাশের কক্ষে ঢুকিয়ে দরজায় তালা লাগিয়ে দেয়। প্রায় ঘন্টাব্যাপী ধরা চলা চন্দন দে’র অতর্কিত হামলায় আতঙ্কিত হয়ে পড়ে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা। এসময় আওয়ামীলীগ নেতা চন্দন দে সরকারি দলের ও স্থানীয় এমপির প্রভাব দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জাহাঙ্গীরকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে বলতে থাকেন আমি(চন্দন দে) সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আমার মোবাইল ধরবে না, আমার মোবাইল নাম্বার জাহাঙ্গীরের কাছে সেইভ থাকবে না এটি কি করে হয়!?

চন্দন দে’র হামলায় আহত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর আলমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে কিছু জানাতে চাননি। পরে ঘটনার বিবরণ শুনতে চাইলে একপর্যায়ে তিনি বলেন, আমি কাউকে কিছু বলতে পারবোনা। তবে ঘটনার দিন আমি জেলা পরিষদে তিনদিনব্যাপী একটি কর্মশালায় ছিলাম। ঐদিন কর্মশালার শেষ দিন ছিলো। কর্মশালা চলাকালিন হঠাৎ আমার মোবাইল ফোনে একটি নাম্বার থেকে ফোন আসলে আমি কলটি রিসিভ করতে পারিনি। কর্মশালা শেষ করে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে এসে ল্যাপটপ ও মাল্টিমিডিয়া সরঞ্জামাদি বিতরণ শেষে স্টক মিলানো অবস্থায় হামলার শিকার হই। আমি এ হামলার কথাটি আমাদের সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা মহোদয় ও পরিষদ চেয়ারম্যান স্যারকে জানিয়েছি।

এ ঘটনার বিষয়ে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি কংজরী চেীধুরী জানান, জাহাঙ্গীর আলমের উপর হামলার বিষয়টি জেনেছি, বিষয়টি এমপি মহোদয় দেখছেন বলেও জানান চেয়ারম্যান।

হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক চন্দন দের কাছে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি এধরনের কোন ঘটনা হয়নি বলে অস্বীকার করে বলেন আপনাকে কে বলেছে? জাহাঙ্গীর?

এদিকে সরকারী অফিস চলাকালীন সময়ে প্রকাশ্যে ঢুকে অফিস স্টাফের উপর হামলার সুষ্ঠু বিচার চান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ ধরণের হামলায় আমরা আতঙ্কিত।

খাগড়াছড়ি নিউজ/বৃহস্পতিবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ইং-॥

মতামত...