খাগড়াছড়িতে ছাত্রলীগের টিকো-জহিরকে অবাঞ্চিত ঘোষণা; মেয়াদত্তীর্ন জেলা কমিটি বিলুপ্ত করার দাবি নেতাকর্মীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক।। খাগড়াছড়িতে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি টিকো চাকমা ও সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন ফিরোজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে তাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণাসহ মেয়াদত্তীর্ন জেলা কমিটি বিলুপ্ত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। আজ দুপুরে জেলা ছাত্রলীগ ও সকল ইউনিটের ব্যানারে আয়োজিত ঝাড়ু মিছিল, সংক্ষিপ্ত সমাবেশ ও সাংবাদিক সম্মেলন করে এ দাবি জানানো হয়।

সমাবেশ ও সাংবাদিক সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, গত ২০০৫ সালে খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠিত হয়। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে কমিটির সভাপতি টিকো চাকমা ও সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দীন ফিরোজ লাগাতার স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থের বিনিময়ে মনগড়া কমিটি ঘোষণা করে আসছে। একইসাথে এই দুই নেতা দলীয় নিয়ম শৃংখলা ভঙ্গসহ বিএনপি ও জামাতের সক্রিয় নেতাদের সংগঠনে পুর্নবাসনের মাধ্যমে আওয়ামী রাজনীতি ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

এর আগে শহরের নারিকেল বাগানস্থ জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় থেকে নেতাকর্মীর একটি ঝাড়ু মিছিল বের করে। এতে জেলা ছাত্রলীগসহ সংগঠনটির বিভিন্ন উপজেলা, পৌর ও কলেজ কমিটির নেতৃবৃন্দরা অংশ নেন। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শাপলা চত্তরে জড়ো হয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে।

পরে দলীয় কার্যালয়ে এসে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেন তারা।

এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি খোকন চাকমা। এতে অভিযোগ করে বলা হয়, টিকো চাকমা ও জহির উদ্দিন ফিরোজ নেতৃত্বাধীন খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদনের পর থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত কোন ধরনের সভা করতে পারেনি। সম্পন্ন করতে পারেনি উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিও। কেন্দ্রীয় ঘোষিত সকল কর্মসুচিও পালন করতে হয়েছে টিকো-জহির ছাড়াই। এছাড়া বিগত বিভিন্ন নির্বাচনগুলোতেও সভাপতি-সম্পাদকের ভূমিকা ছিল বিতর্কিত। ২০১৫ সালের পৌরসভা নির্বাচন ও পরবর্তী সময়ে তাদের বিতর্কিত ভূমিকার কারণে জেলা ছাত্রলীগের কমিটির সকল কার্যক্রম স্থগিত করেছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন।

এসব ছাড়াও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি টিকো চাকমা কমিটিতে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ’র সাথে গোপন সম্পৃক্ততার পাশাপাশি তক্ষক ও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। অর্থের লোভে সংগঠনের মধ্যে গ্রæপিং সৃষ্টি করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

অপরদিকে, জহির উদ্দীন ফিরোজ দলীয় পদবী ব্যবহার করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং পৌরসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। একইসাথে জোরপূর্বক বিভিন্ন স্থানে ভূমি দখলের অভিযোগ করেন জহিরের বিরুদ্ধে।

নেতৃবন্দ সংগঠনকে গতিশীল করতে আগামী সাত দিনের মধ্যে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের কাছে অভিযুক্ত দুই নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

কর্মসুচিতে অন্যান্যের মাঝে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক বাপ্পি চৌধুরী, মহালছড়ি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জিয়াউর রহমান, পানছড়ির সভাপতি শ্রীকান্ত দেব মানিকসহ জেলা, উপজেলা ও কলেজসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

খাগড়াছড়ি নিউজ/এস/বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০ইং।।

মতামত...