খাগড়াছড়িতে ফের ১ দিনের অবরোধ দিয়েছে ইউপিডিএফ

নিজস্ব প্রতিবেদক।। ইউনাইটেড পিপল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর অন্যতম কেন্দ্রীয় সংগঠক মিঠুন চাকমাকে হত্যার প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে আগামিকাল (রোববার) অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

আজ শনিবার সন্ধ্যায় সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অবরোধ কর্মসূচির বিষয়ে নিশ্চিত করা হয়। ইউপিডিএফ’র প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগ থেকে নিরন চাকমা স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মিঠুন চাকমাকে পরিকল্পিতভাবে নব্য মুখোশ বাহিনী দিয়ে হত্যা ও তাঁকে পার্টি অফিসে এনে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনে বাঁধাদানের প্রতিবাদে ঘোষিত ৬ জানুয়ারি (শনিবার) খাগড়াছড়ি জেলাব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ পালন করে সংগঠনটি। অবরোধ চলাকালে প্রশাসনের বিনা উস্কানিতে পিকেটারদের উপর টিয়ারসেল নিক্ষেপ ও খাগড়াছড়ি সদরের কয়েকটি জায়গায় পিকেটিং-এর সময় সেনাবাহিনী কর্তৃক ফাঁকা গুলি বর্ষণের প্রতিবাদে সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আগামীকাল ৭ জানুয়ারী (রবিবার) খাগড়াছড়ি জেলায় আরো ১দিন সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে ইউপিডিএফ।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উক্ত কর্মসূচী সফল করার লক্ষে সকল যানবাহন মালিক, চালক, শ্রমিক সংগঠন ও সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহŸান জানানো হয়েছে।

এর আগে পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) কেন্দ্রীয় সংগঠক মিঠুন চাকমাকে হত্যার প্রতিবাদে সংগঠনটির ডাকা খাগড়াছড়িতে সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ পালন করেছে সংগঠনটি।

গত শুক্রবার বিকালে মিঠুন চাকমার শেষ কৃত্য অনুষ্ঠান উপলক্ষে এক শোক সভা থেকে এ অরোধের ডাক দেয় ইউপিডিএফ।

অবরোধের শুরুতে জেলার অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লা সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিলো। বেলা বাড়ার সাথে সাথে শহরতলীতে সাধারণ যাত্রী পরিবহনের সংখ্যা বাড়লেও অভ্যন্তরীণ সড়কে যানবাহন চলাচল না করায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারন মানুষ।

তবে সকাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ চলাকালে বেলা সাড়ে ১০টার দিকে পৌর শহরের প্রবেশ মুখের চেঙ্গী ব্রীজ এলাকায় পুলিশ ও অবরোধ সমর্থকদের সাথে মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় অবরোধ সমর্থকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলতি ও পাটকেল ছুঁড়লে এএসআই আবুল হোসেনসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিন রাউন্ড শর্টগানের ফাঁকা গুলি ছুড়ে।এছাড়া খাগড়াছড়ি-পানছড়ি সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছ কেটে সড়কে ফেলে অবরোধ করে রেখেছিলো অবরোধ সমর্থিত সংগঠনটির পিকেটাররা।

এদিকে অরোধে চলাকালে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শহরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি সদস্যরাও টহলে ছিলো।

শনিবারের অবরোধের বিষয়ে খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম সালাহউদ্দিন জানান, সকালে পুলিশের নিরাপত্তায় ঢাকা থেকে খাগড়াছড়িগামি নৈশকোচ গুলো জেলা শহরে আনা হয়েছে। সাজেকগামী পর্যটকবাহী পরিবহনগুলোও পুলিশি নিরাপত্তায় পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সড়ক অবরোধ চলাকালে শহরের অদুরে বিভন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ঘটেছে। চেঙ্গী স্কোয়ার এলাকায় পুলিশের ওপর পিকেটাররা গুলতি, ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে। এসময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পিকেটারদের ছত্রভঙ্গ করে। বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ছাড়া জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল বলেও জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।

প্রসঙ্গত, গত ৩ জানুয়ারী খাগড়াছড়ি সদরের অপর্ণা চৌধুরীপাড়াস্থ নিজ বাসার সামনে থেকে জোর পূর্বক তুলে নিয়ে শহরের স্লুইচ গেইট এলাকায় প্রতিপক্ষের অস্ত্রধারীরা গুলি করে হত্যা করে মিঠুন চাকমাকে।

গত শুক্রবার দুপুরে সাংগঠনিক ভাবে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মিঠুনের লাশ স্বণির্ভর এলাকার অফিসে নিতে চাইলে প্রশাসন তাতে বাধা দেয়ার অভিযোগ এনে প্রতিবাদে আজ শনিবার জেলায় সকাল সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ পালন করেছে ইউপিডিএফ।
এস/শনিবার, ৬ জানুয়ারি ২০১৮ইং-।।

মতামত...