খাগড়াছড়িতে শেষ মূহুর্তের বেচাকেনায় জমজমাট কোরবানীর পশুর হাট

খাগড়াছড়ি জেলা শহরের চেঙ্গী নদীর পাড়ে বসানো কোরবানীর পশুর হাট।

নিজস্ব প্রতিবেদক।। ঈদ উল আযহার বাকী মাত্র আর একদিন। খাগড়াছড়িতে বৈরী আবহায়র মধ্যেও শেষ মুহুর্তে জমজমাট হয়ে উঠেছে কোরবানীর পশুর হাটগুলো। বেচাকেনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন পশু ক্রেতা-বিক্রেতারা। বাজারে দেশী ও স্থানীয় গরু থাকায় চাহিদাও রয়েছে বেশ। আর বাজারগুলোতে পর্যাপ্ত পশু থাকায় দামটাও রয়েছে সহনীয় পর্যায়ে।

আগামী ১২ আগস্ট সোমবার পবিত্র ঈদুল আজহা। শেষ মুহূর্তে পশু কেনাকাটায় ব্যস্ত পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলার ক্রেতারা। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বাজারগুলোতে বেচাকেনা হচ্ছে। এখানকার বাজারে দেশি পশুর চাহিদাই বেশি। জেলায় যে কয়টি পশুর হাট রয়েছে তার মধ্যে জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার বাজারগুলোতে দেশী ও স্থানীয় গরুতে সয়লাব। বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি ও বিক্রিও ভালো। তবে ক্রেতাদের কাছে মাঝারি গরুর চাহিদা একটু বেশি। বাজারগুলোতে পর্যাপ্ত পশু থাকায় দামও সহনীয় পর্যায়ে আছে বলে জানান ক্রেতারা।

ছোট বড় সব সাইজের গরু পাওয়া যায়। যার কারণে ক্রেতারা পছন্দমতো কিনতে পারে।

ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, ছোট বড় সব ধরণের গরু থাকায় পছন্দমত কেনার সুযোগ রয়েছে। দাম সহনীয় থাকায় খুশি তারা। এছাড়া বাজার ঘুরে স্বাচ্ছন্দে পশু কিনতে পারলেও জেলা শহরের বাজারে যে পশুর হাট রয়েছে সেখানে কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে ক্রেতাদের। এর কারণ হিসেবে দুষলেন ইজারাদারদের অবহেলাকে। বৈরী আবহাওয়ার কারনে হাটে কাঁদার মধ্যে পশু কেনার বিড়ম্বনার শিকার হলেন তারা। কর্তৃপক্ষ একটু সচেতন হলে ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য অনেকটা সুবিধা হতো বলে জানিয়েছেন উভয়েই।

এবছর খাগড়াছড়িতে কোরবানীর পশুর সংকট নেই উল্লেখ করে জেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগ জানায়, বাজারগুলোতে স্বাস্থ্য সম্মত পশু নিশ্চিত করতে বসানো হয়েছে ভেটেনিরারী মেডিকেল টিম। তবে এখানকার হাটে কৃত্রিমভাবে মোটাতাজাকরণ পশু নেই বলে জানিয়েছেন টিমের সদস্য খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার উপ-সহকারী প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা(সম্প্রসারণ) দীপংকর তালুকদার।

এখানকার গরুগুলো দেশী ও স্থানীয়ভাবে পালন করা হয়। স্বাস্থ্য সম্মতভাবেই মোটাতাজাকরণ করা হয়ে থাকে।

এদিকে, ক্রেতা-বিক্রেতাদের কথা বিবেচনা করে পশুর হাটের ইজারাদারেরা বাজারে মাইকিং করে হাটের দিনের বাইরে পশুর হাট বসানোর ঘোষণা দিয়েছে। শেষ মূহুর্তে বেড়েছে ক্রেতা বিক্রেতাদের সমাগম। বাজারে বেচাকেনায় বেশি হওয়ায় খুশি কর্তৃপক্ষ। হাচিল নিয়ে নেই কোন ধরাবাঁধা নিয়ম নেই বলে জানিয়েছেন সদরের ইজারাদার মো. জামাল হোসেন।

খাগড়াছড়িতে জেলা সদরে কোরবানীকে সামনে রেখে পশুর বাজারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মো. রশিদ আহমেদ জানান হাটে ক্রয়-বিক্রি করে নির্বিঘ্নে মানুষ যাতে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে সেজন্য কয়েকটি সড়কে বসানো হয়েছে পুলিশের মোবাইল টিম। এছাড়া পশুর হাটে জাল টাকা সনাক্ত ও মলম পার্টির খপ্পড়ে পরে ক্রেতা-বিক্রেতারা যাতে প্রতারণার শিকার না হয় সেজন্য সাদা ও পোশাক পরা পুলিশ কাজ করছে।

মতামত...