খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা আ’লীগের কাউন্সিল; পদ পাননি সরকারী চাকুরী থেকে ইস্তফা দেওয়া নরোত্তম দাশ বৈষ্ণব

নিজস্ব প্রতিবেদক।। দলীয় পদের আশায় সরকারী চাকুরী থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন নরোত্তম দাশ বৈষ্ণব। খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ার আশায় চাকুরি থেকে ইস্তফা দেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই পদেও আসতে পারেননি। কাউন্সিলে ছিটকে পড়েছেন নরোত্তম দাশ বৈঞ্চব।

তিনি খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা সহকারি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। তবে তার পদ পানছড়িতে থাকলেও সংযুক্তিতে ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা সদরে। এর আগে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাড়ে ৯ বছর সহকারী শিক্ষকতার পেশায় কর্মরত ছিলেন। শিক্ষকতা পেশায় থেকে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে পরীক্ষা দিয়ে চাকুরী পান তিনি। সব মিলিয়ে গত ১৬ বছর ধরে সরকারী চাকুরী করেছেন। চাকুরীতে থাকাকালীন ২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হোন তিনি। চাকুরি করেও দিব্যি সরকার দলীয় রাজনৈতিক কর্মকান্ড ও মাঠে ময়দানে সক্রিয় রয়েছেন। সবশেষ ২০১৪ সাল থেকে ২০১৯ সালের ২৭শে অক্টোবর পর্যন্ত খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা যুবলীগের নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আজ সোমবার (০৪ নভেম্বর) খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিলে সভাপতি পদে নরোত্তম দাশ বৈষ্ণব বেশ আলোচিত মুখ ছিলেন। কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণার পর গত ২৮ অক্টোবর সরকারি চাকুরী থেকে ইস্তফা দেন তিনি। একইসাথে সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতির পদ থেকেও পদত্যাগ করেন। তারপর থেকে তিনি খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে সভাপতি পদে প্রার্থী হয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন। ভোট চেয়ে পুরো জেলা সদরে ঝুলানো হয় ব্যানার। নির্মিত হয় বিশাল তোড়ন। শুধু তাই নয়; পুরো উপজেলা জুড়ে পোষ্টার সাটানো হয়েছে তার পক্ষে। শহর ও শহরতলীতে তার ব্যানার, প্লেকার্ড ও তোড়নে ছেয়ে যায়। কিন্তু কাউন্সিল শুরু হওয়ার পর থেকে তিনি ছিটকে পড়েন। সভাপতি পদে হঠাৎ আলোচনায় চলে আসেন সনজীব ত্রিপুরা। নির্বাচিতও হোন তিনি। তবে ভোট হওয়ার কথা থাকলেও সমঝোতার ভিত্তিতে জেলা আ’লীগের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে সভাপতি পদের ভাগ্য নির্ধারণ হয়।এর আগে সম্মেলন ও কাউন্সিলের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। এসময় জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে নরোত্তম বৈষ্ণব জানান, ২০০৮ সাল থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ধারণ করে রাজনীতি করছি। তারপর থেকে দলীয় নানা কর্মকান্ডে সরব ছিলাম। খাগড়াছড়ির জনপ্রিয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা আমাদের অভিভাবক। তিনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাতে কোন ধরণের অভিযোগও নেই। কারণ তাঁর নেতৃত্বে পুরো জেলা আ’লীগসহ সহযোগী সংগঠনগুলো ঐক্যবদ্ধ। সদর উপজেলা আ’লীগের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হতে না পরলেও নিজের মধ্যে কোন ধরণের আক্ষেপ বা অভিমান নেই। সংগঠনের শৃংখলার স্বার্থে তিনি তা মেনে নিয়েছেন।

খাগড়াছড়ি পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক বিপ্লব বড়–য়া জানান, নরোত্তম বৈষ্ণব তার পদ থেকে অব্যহতি চেয়ে আবেদন করেছেন। আবেদনটি উপজেলা হয়ে আমার (উপ-পরিচালকের) কাছে আসছে। বর্তমানে বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

খাগড়াছড়ি জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কে এম ইসমাইল হোসেন জানান, সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি নরোত্তম দাশ বৈষ্ণবের পদত্যাগ পত্রটি গ্রহণ করা হয়েছে। পদটি শুণ্য করে সংগঠনটির প্রথম সহসভাপতিকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

নরোত্তম দাশ বৈষ্ণবের পিতা যুগল দাশ বৈষ্ণব একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। সে সুবাধে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত আমরা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংগঠনের জেলা শাখার কনভেনার ছিলেন নরোত্তম বৈষ্ণব। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের মাঝামাঝিতে একই সংগঠনের নির্বাচিত সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

খাগড়াছড়ি নিউজ/এস/সোমবার, ৪ নভেম্বর ২০১৯ইং।।

মতামত...