জার্মপ্লাজম সেন্টার হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বীজের আধার: নব বীক্রম কিশোর ত্রিপুরা

নিজস্ব প্রতিবেদক।। খাগড়াছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিপন্ন প্রজাতির বৃক্ষের সংরক্ষণে খাগড়াছড়িতে জার্মপ্লাজম কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়েছে।

আজ দুপুরে জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার আলুটিলা এলাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে জার্মপ্লাজমের উদ্বোধন করেন বোর্ডের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা এনডিসি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ৯৭ ভাগ পাহাড়ি এলাকা। এক সময়ে এপাহাড় ছিলো প্রাকৃতিক বনে ভরপুর। নানা প্রজাতির গাছপালা ও বন্যাপ্রাণী ছিল। ১৮৭২ সাল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের এসব প্রাকৃতিক বনকে অনুৎপাদনশীল বন আখ্যায়িত করে সেসব বন কেটে মুল্যবান কাঠ উৎপাদনের নিমিত্তে সেগুন গাছ লাগানো শুরু করে। সেই থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক বন ধ্বংস শুরু। ব্রিটিশ, পাকিস্থান এমনকি বাংলাদেশ আমলেও এখানকার বন ব্যবস্থাপনার তেমন কোন পরিবর্তন হয়নি। নির্বিচারে প্রাকৃতিক বন নিধনের ফলে পাহাড়ে বনাঞ্চলের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমছে। বন ও বনভূমি ধ্বংসের কারণে বিরল বহু প্রজাতির ওষুধি, ফলদ ও বনজ গাছপালা বিলুপ্ত হচ্ছে রোজ। এতে জীববৈচিত্র পড়ছে হুমকির মুখে। অনেক গাছ পালা হারিয়েও গেছে বন থেকে।

জার্মপ্লাজম সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন নব বীক্রম কিশোর ত্রিপুরা।

প্রাকৃতিক বনের বিকল্প নেই জানিয়ে বক্তারা আরোও বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলে পানির উৎস হচ্ছে প্রাকৃতিক বন। আর সেইসব বন ধ্বংসের কারণে প্রায় ৫ হাজার ছড়া ও নদীর পানির মুখ প্রায়ই শুকিয়ে যাচ্ছে। বিগত কয়েক দশকে পাহাড়ে বন উজাড় সবচেয়ে বেশি হয়েছে। নানা দ্ব›দ্ব ও সংঘাতের কারনে এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজের গতি ব্যাহত হয়েছে। বন বিভাগও বন সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের গাছপালা সম্পর্কে এখানকার জনগোষ্ঠীকে জানতে হবে উল্লেখ করে তারা বলেন, আমরা অনেকেই পার্বত্য চট্টগ্রামের সব গাছ চিনিনা। নতুন প্রজম্মতো জানবেইনা পাহড়ে কি কি গাছপালা ছিলো। তাদের জন্য বিপন্ন প্রজাতির বৃক্ষের জার্মপ্লাজম সেন্টার করা হয়েছে। জার্মপ্লাজম সেন্টার হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বীজের আধার। এভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিলুপ্ত বৃক্ষগুলোকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

বক্তারা পাড়া বন ও সৌজা বন সংরক্ষণে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান তরুন কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামান, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সফর আলী প্রমুখ।

এসময় মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিভূষণ কান্তি দাশ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের মিশ্র ফল চাষের প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলামসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

জার্মপ্লাজম সেন্টারের উদ্বোধন শেষে বাইজ্জ্যা বাঁশ, দেশীয় বনজ বৃক্ষ, হরিতকী, বহেরাসহ বিপন্ন প্রজাতির কয়েকটি বৃক্ষ রোপণ করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা ও অন্যান্যরা।

জার্মপ্লাজম সেন্টারে হরিতকি গাছের চারা রোপন করছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ‍উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান।

প্রসঙ্গত, পাহাড়ের বিপন্ন প্রজাতির বৃক্ষের এটিই প্রথম জার্মপ্লাজম সেন্টার।
খাগড়াছড়ি নিউজ/এস/রবিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং-।।

মতামত...