জুমের বাহারি ফসল তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন জুমিয়ারা

Bandarban Jaum Pic-1.মো:শাফায়েত হোসেন,বান্দরবান।। বান্দরবানের পাহাড়ে পাহাড়ে শুরু হয়েছে জুমের ফসল সংগ্রহের মৌসুম। জুমের বাহারি ফসল তুলতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন জুমিয়ারা। পাকা ধান কাটার ধুম লেগেছে পার্বত্যাঞ্চলে। চলছে জুমের পাকা ধান ও অন্যান্য ফসল ঘরে তোলার মহোৎসব। জুমের সোনালি ফসল এখন পাহাড়িদের ঘরে ঘরে আলো ছড়াচ্ছে। আর এ ফসল তোলার আনন্দে ঘরে ঘরে নবান্ন উৎসবে মেতে উঠেছে জুমচাষীরা। বান্দরবানসহ তিন পার্বত্য জেলাতেই একমাত্র জুমচাষ হয়ে থাকে। পার্বত্যাঞ্চলের ক্ষু্দ্র নৃ-গোষ্ঠির জীবিকার আদিম ও প্রধান উৎস জুম চাষ। তাদের পাহাড়ে সনাতন পদ্ধতিতে ধানবীজ বুনে মিশ্র ফসলের চাষাবাদ করা হয়।এই চাষই পাহাড়ে ‘জুমচাষ’ বলে পরিচিত। জুমে ১৮ জাতের  ধানচাষের পাশাপাশি তিল,তুলা,জুম  শিম,মারফা,মরিচ,বেগুন,জুরো আলু,মিষ্টি কুমড়া,ওলকচু,মেইয়ে শাক ও ভুট্টাসহ বিভিন্ন প্রজাতির শাক-সবজির চাষাবাদ করা হয়। যার ফলে পাহাড়ী অঞ্চলের মানুষের তরি তরকারির বড় একটি যোগান আসে জুমচাষ থেকে।

চাষীদের মতে.এপ্রিল শেষে মে মাসে ধান,মরিচ,তিল,সরিষা,তুলাসহ জুমের বিভিন্ন বীজ বপন করা হয় এবং সেপ্টম্বর ও অক্টোবর মাসে জুমের ফলন ঘরে তোলা শুরু করেন চাষীরা। জুমের উৎপাদিত জেলার প্রায় ৮০ শতাংশ উপজাতীয় পরিবারই জুমচাষের ওপর নির্ভরশীল। প্রতি বছরের প্রায় ৬ থেকে ৮মাসই এসব পরিবার গুলো খাদ্যের যোগান দেয় জুমে উৎপাদিত ধানসহ রকমারি ফসল থেকে।তাদের মতে.চলতি মৌসুমে জুন জুলাই মাসে ভারী বর্ষনের কারনে এবার জুমের উৎপাদন আশানুরুপ ফলন ঘরে তুলতে পারবেনা চাষীরা। এবছরের জুমের ফলন কম হওয়ায় জুমিয়া পরিবার গুলো মধ্যে খাদ্যে সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশংকা করেন জুম চাষীরা।

এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক আলতাফ হোসেন বলেন,পার্বত্য জেলা মুলত পাহাড়ীদের জুমচাষ এটি অন্যতম একটি ফসল। এইটি বাংলাদেশের চাষাবাদ থেকে ভিন্নতর প্রদ্ধতি চাষাবাদ। বিশেষ করে ধান মুসলা জাতিয় ফসল নিয়ে এলাকায় জুম চাষ হয়ে থাকে। এখানে যেই জাতে জুম চাষ করে থাকে এইটা স্থানীয় জাত।তবে চাষীরা অধুনিক নিয়মে ও বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে চাষাবাদ করে না এবং অনেক চাষী একই জমিনে একাধিক বিজ রোপন করে থাকে যে কারনে ঐ সব জমিনে ফলন কম হয়ে থাকে।ঐ কর্মকর্তার তথ্য মতে.চলতি মৌসুমে বান্দরবান জেলায় প্রায় ৮ হাজার ৯৬০ হেক্টর পাহাড়ি জমিতে জুমচাষ হয়েছে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২ হাজার ৭শত ২৬ মেট্টিকটন।

খাগড়াছড়ি নিউজ/এনএম/সোমবার; ১২ অক্টোবর ২০১৫ইং-।।

মতামত...