পাকুয়াখালী গণহত্যার বিচার হয়নি ২৩ বছরেও; খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক।। আজ রাঙ্গামাটির লঙ্গদু উপজেলার পাকুয়াখালী গনহত্যা দিবস। ১৯৯৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তৎকালীন সশস্ত্র শান্তিবাহিনী কর্তৃক নির্মম হত্যার শিকার হন নিরীহ ৩৫ জন বাঙ্গালী কাঠুরিয়া। ২৩ বছরেও হত্যাকান্ডের ঘটনার বিচার না হওয়ায় ক্ষুব্দ পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয় অংশীজনরা। আর ঘটনার পর থেকেই নৃশংস হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ ও দোষীদের বিচার দাবি করে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে পাহাড়ের বাঙ্গালি সংগঠনগুলো। তাদের সাথে একাত্মতা পোষণ করে কর্মসুচিতে অংশ নেন হত্যাকান্ডের ঘটনার সময় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি ও প্রত্যক্ষদর্শীরা। ৩৫ কাঠুরিয়ার মধ্যে ২৮ জনের লাশ শনাক্ত করা গেলেও বাকী সাত জনের লাশের সন্ধান এখনও পায়নি পরিবারের সদস্যরা। গণহত্যার পর থেকে দিনটিকে পাকুয়াখালী গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে এখানকার বাঙ্গালি সংগঠনগুলোসহ নিহতদের স্বজন ও এলাকাবাসীরা। ক্ষোভ আর স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে প্রতিবছর ৯ সেপ্টেম্বর আসলেই বিচারের দাবিতে রাজপথে নামেন পরিবারের সদস্যরা। বুকভরা কষ্ট আর দীর্ঘশ্বাস নিয়ে তুলে ধরেন সেই হত্যাকান্ডের বীভৎস চিত্র। তুলে ধরেন মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ডেকে নিয়ে নির্মম হত্যাকান্ডের বর্ণনা। প্রশ্ন রেখে যান পাহাড়ে কোন হত্যাকান্ডের কি বিচার হবেনা? তারই ধারাবাহিকতায় খাগড়াছড়িতে আজও বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

আজ সোমবার দুপুরে সংগঠনটির জেলা শাখার উদ্যোগে সদর উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এতে ব্যানার-পোষ্টার নিয়ে ছাত্র পরিষদের নেতাকর্মীসহ পাকুয়াখালী হত্যাকান্ডের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা অংশ নেন। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পৌর এলাকার শাপলা চত্ত্বরে এসে মাববন্ধন করে। ঘন্টাব্যাপী ধরে চলা কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, পাকুয়াখালী গণহত্যার সময় লাশ শনাক্তকারী আব্দুল হাকিম, গণহত্যার সময় বেঁচে ফেরা একমাত্র কাঠুরিয়া মোঃ ইউনুছ মিয়া, পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইঞ্জিঃ আব্দুল মজিদ প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সন্তু লারমার নেতৃত্বে তৎকালীন শান্তিবাহিনীর সদস্যরা পাকুয়াখালীতে ৩৫ নিরীহ বাঙ্গালি কাঠুরিয়াকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। দীর্ঘ ২৩ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই গণহত্যার বিচার হয়নি। বরং হত্যাকারীদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে পুনর্বাসন করেছে সরকার। বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও একপেশে সুবিধা ভোগ করার কারণে পাহাড়ে খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজি করছে অবৈধ অস্ত্রধারী জেএসএস ও ইউপিডিএফসহ ৪টি পাহাড়ি সংগঠন। তারা এখন সেনাবাহিনীর টহল দলের উপরেও হামলা চালাচ্ছে। পাহাড় অশান্তের নেপথ্যে এসব সংগঠনগুলোকে দায়ী করে মানববন্ধন থেকে বলা হয়, পাহাড়ে বাঙ্গালিদের নিরাপত্তা নিয়ে সরকারকে নতুন করে ভাবতে হবে। প্রত্যাহারকৃত সেনা ক্যাম্পগুলো প্রতিস্থাপন করারও জোর দাবি জানান বক্তারা। অবিলম্বে পাকুয়াখালী হত্যাকান্ডসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে সকল হত্যাকান্ডের ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যদের ক্ষতিপূরণ ও সরকারীভাবে পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

খাগড়াছড়ি নিউজ/এস/সোমবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ইং।।

মতামত...