বান্দরবানে সন্তু লারমা নেতৃত্বাধীন পিসিজেএসএস’র ডাকা হাট-বাজার বর্জনের কর্মসূচি পালিত

Bandarbanমো: শাফায়েত হোসেন, বান্দরবান ।। শান্তি চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবীতে বান্দরবানে পাহাড়ি আঞ্চলিক সংগঠন সন্তু লারমা নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) ডাকা অসহযোগ আন্দোলনের অংশ হিসেবে জেলায় হাট-বাজার বর্জনের কর্মসূচি পালিত হয়েছে। তবে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

বুধবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই কর্মসূচী পালিত হয়।

কর্মসূচি চলাকালে জেলা শহরের মধ্যম পাড়া, বাজার প্রু আবাসিক এলাকা ও বালাঘাটা এলাকার বাজারগুলোতে সব ধরনের দোকান বন্ধ ছিল। এসব এলাকায় বুধবার সাপ্তাহিক হাট-বাজারের দিনে কোনো পাহাড়ি বিক্রেতা বাজারে পণ্য নিয়ে আসেনি। এছাড়াও বিভিন্ন উপজেলার দূর্গম এলাকার স্থানীয় বাজারগুলো বন্ধ থাকলেও জেলা শহরের বাজারগুলোতে ব্যবসা বাণিজ্য ছিলো স্বাভাবিক। যে কোনো ধরণের অপ্রীতির ঘটনা এড়াতে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পর্যাপ্ত পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিলো।

পরিবহন শ্রমিকরা জানান, এ কর্মসূচি সফল করতে জনসংহতি সমিতির নেতাকর্মীরা রুমা, রোয়াংছড়ি, বাঘমারা, বাঙ্গাল হালিয়া সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। সকাল থেকে ওই সড়কগুলোতে কোনো প্রকার যান চলাচল করতে দেওয়া হয়নি। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ।

এর আগে অসহযোগ আন্দোলনের অংশ হিসেবে বান্দরবান জেলায় পাড়ায় পাড়ায় লিফলেট বিতরন করেছে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। লিফলেটে বলা হয়েছে,পার্বত্য চট্রগ্রাম শান্তি চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবীতে ও জুম্ম জনগণের অস্তিত্ব এবং আবাসভূমি রক্ষা, ভূমি ইজারা বাতিলকরণ, ১৯০০ সালের শাসন বিধি চালু, জুম্ম, শরাণার্থীদের পুনর্বাসনের স্বার্থে জনসংহতি সমিতি নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে অসহযোগ আন্দোলনে অবতীর্ণ হতে বাধ্য হচ্ছে।

পার্বত্য চট্রগ্রাম জনসংহতি সমিতির নেতা জলিমং জানায়, সন্তু লারমা ঘোষিত অসহযোগ আন্দোলনের অংশ হিসেবে বাজার বর্জনের কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। জেলার ৭ উপজেলায় শান্তিপূর্ণ এই কর্মসুচী সফল করার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে আহবান করা হয়েছে। এই কর্মসূচী পালনে কাউকে বাধ্য করা হয়নি। শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারকে জনসংহতি সমিতির বেঁধে দেওয়া চূড়ান্ত সময় শেষ হয়ে গেলেও কোনো সময়সূচি ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে এগিয়ে না আসায় সমিতি এ আন্দোলন শুরু করতে বাধ্য হয়েছে।

জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) নেতা উছোমং মার্মা জানান, চলতি মাসের প্রথম দিকে রাঙ্গামাটিতে একই ধরনের কর্মসূচি পালন করে জনসংহতি সমিতি। এর অংশ হিসেবে বান্দরবানের সবকটি উপজেলায় এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। সকাল থেকে সংগঠনের নেতা কর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি পালন করছে।

খাগড়াছড়ি নিউজ/শাহো/শাই/বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০১৫ইং-।

মতামত...