বিপর্যস্ত জনপদ বান্দরবান; আবারও সারাদেশের সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

Bandarban Pic-1---মোঃ শাফায়েত হোসেন,বান্দরবান।।
একমাসের মধ্যে দুইবারের বন্যা ও প্রবল বর্ষণে বিপর্যস্ত জনপদে পরিণত হয়েছে পার্বত্য জেলা বান্দরবান। বৃহ্স্পতিবার রাতে বান্দরবানের প্রবেশমুখ সুয়ালক এলাকায় বেইলী ব্রীজ ডেবে গিয়ে আবারও সারাদেশের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এজেলার সড়ক যোগাযোগ। এতে করে রাস্তার দু’পাশে আটকা পড়েছে শতশত যানবাহন। এছাড়াও প্রবল বর্ষণে পাহাড় ধসে  ও সড়ক ডেবে গিয়ে বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র রুমা এবং থানছি উপজেলায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে গত ৯ দিন ধরে। এতে করে নীলগিরি,চিম্বুকসহ উপজেলা দুটির দর্শণীয় স্থানগুলোতে আটকা পড়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটক।

বান্দরবানের সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আজিজুল মোস্তফা জানান,বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে বান্দরবান-কেরানীহাট প্রধান সড়কের সূয়ালক চেকপোস্ট এলাকায় একটি ব্রিজ ডেবে গেছে। এতে সারাদেশের সঙ্গে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। তবে সংযোগ স্থাপনে দেবে যাওয়া ব্রিজের ওপরে একটি বেইলি ব্রিজ স্থাপনের কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
এছাড়াও বৃহস্পতিবার থেকে ভারি বর্ষণে জেলা শহরের আর্মি পাড়া,মেম্বারপাড়া, শেরেবাংলা নগর,ইসলামপুরসহ নিম্নাঞ্চল আবারও প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে ঝুকি নিয়ে বসবাসকারীদের সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে পৌরসভার পক্ষ থেকে। গতরাত ও আজ শুক্রবার সকাল থেকে দূর্গতরা আশ্রয় কেন্দ্রের দিকে আসতে শুরু করেছেন।

Bandarban pic-29-7অপরদিকে প্রবল বর্ষণে বান্দরবানে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে জেলার থানছি উপজেলার বড়মদক,অতিরাম পাড়া,জাফরাং পাড়া এলাকার ৩টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে রেমাক্রী ইউনিয়নের মড়মদক বাজারসহ কয়েকটি পাড়া প্লাবিত হয়েছে।
জেলায় এক মাসে দু’দফার বন্যায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে । এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া মানুষগুলো। গত এক সপ্তাহ ধরে বন্যা পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন এলাকায় নলকূপ, রিংওয়েলসহ বিভিন্ন পানির উৎস ডুবে যাওয়ায় বিশুদ্ধ খাবার পানি মিলছেনা। এতে করে পানিবন্দী এলাকাগুলোতে ডায়রিয়া, জন্ডিসসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।
দূর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবেলায় কাজ করছে জেলা প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ, পার্বত্য জেলা পরিষদ ও সেনাবাহিনীর একাধিক দল। অসীম চাহিদার বিপরীতে স্বল্প পরিসরে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে।

বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(ভারপ্রাপ্ত) মো. আবু জাফর খাগড়াছড়ি নিউজকে জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬ হাজার ৪৮১টি পরিবারের তালিকা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের ত্রাণ ভান্ডার থেকে প্রতিটি পরিবারকে দৈনিক ৩৮ টাকা হারে দেওয়া হচ্ছে।

 

খাগড়াছড়ি নিউজ/এনএম/৩১জুলাই,২০১৫ইং।।

মতামত...