সরকারি নির্দেশনা মেনে খাগড়াছড়িতে চাষীদের পাশে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

স্টাফ রিপোর্টার।। নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলা কেতন, নানা বৈচিত্র্যময় স্বর্গীয় সৌন্দর্যের তীর্থভূমি পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি। এ জেলায় প্রায় ৬.৫ লক্ষ মানুষের আয়ের একটি অন্যতম উৎস কৃষি। পাহাড়ে বসবাসরত বেশিরভাগ অধিবাসিরাই জুম চাষ করে তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় মৌসুমি ফসল উৎপাদন করে থাকে। এরমাধ্যমে পারিবারিক চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন হাট-বাজারে উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করে। কিন্তু করোনা সতর্কতার কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মত বাংলাদেশেও লকডাউন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এর প্রভাবে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে চাষীরা তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন কৃষি পণ্য বাজারে নিয়ে গেলেও ক্রেতা সমাগম না থাকায় দাম পাচ্ছেন না। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সরকারি নির্দেশনা মেনে চাষীদের পাশে দাঁড়িয়েছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো।

জেলার দীঘিনালা, মাটিরাঙ্গা ও মহালছড়ি উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, অন্যান্যা ফসলের ন্যায় এসব এলাকার কৃষকদের আয়ের অন্যতম উৎস ও প্রধান অর্থকারী ফসল তামাক। ইতিমধ্যে এ ফসলটি মাঠ থেকে ঘরে নিয়ে গেছে চাষীরা।

উল্লেখ্য যে, প্রতি বছরই তামাক বিক্রি করে চাষীরা। এতে একটি ভালো পরিমাণ নগদ অর্থ পেয়ে থাকে তারা। যা দিয়ে তাদের পরিবারের খরচ চালানোর পাশাপাশি পরবর্তী ফসল যেমন আউশ ধান, সবজিসহ রবি শস্য ফসলসহ ইত্যাদি উৎপাদনে বিনিয়োগ করে থাকেন। কিন্তু করোনা সংকটের কারণে দেশে লকডাউন বিরাজ করায় চাষীদের উৎপাদিত তামাক বিক্রি নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়। কেননা সরকারি নির্দেশনায় অন্যান্য কোম্পানি গুলোর মত তামাক কোম্পানি গুলোরও সীমিত পরিসরে কাজ গুটিয়ে নেয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। এ অবস্থায় চাষী এবং করোনা পরবর্তী সংকট পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে তামাক কোম্পানি এগিয়ে আসে এবং সঠিক সময়ে তামাক ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। খাগড়াছড়িতে বর্তমানে বি.এ.টি.বি. তামাক চাষ এবং তামাক ক্রয় কার্যক্রম অব্যহত রেখেছেন।

দেশের সংকটময় পরিস্থিতিতেও চাষীদের অর্থনৈতিক বিষয়টি বিবেচনা করে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো। এ উদ্যোগের ফলে সঠিক সময়ে কৃষকের উৎপাদিত তামাক ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন স্থানীয় তামাক চাষীরা।

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার অন্তর্গত ১নং কবাখালী ইউনিয়নে অবস্থিত ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর ক্রয় কেন্দ্রে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চাষীদের একত্রিত না করে প্রতি ঘন্টায় নির্দিষ্ট সংখ্যক চাষীকে অবহিত করে।এবং শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করে তামাক ক্রয় করা হচ্ছে। একই সরকারি স্বাস্থ্য বিধি মেনে সীমিত সংখ্যক চাষী নির্দিষ্ট ক্রয়কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তাদের উৎপাদিত তামাক বিক্রয় করছেন। এছাড়াও উপস্থিত চাষীদের থার্মোমিটার গান দিয়ে তাপমাত্রা পরিমাপ, মাস্ক পরিধান, হ্যান্ডওয়াশ/সাবান দিয়ে হাত ধৌয়া, COVID -19 এর সচেতনতামূলক পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন ইত্যাদি ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকাতে চাষীরাও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।চাষীদের ভাষ্য মতে, এই মুহূর্তে যদি তামাক বিক্রয় করা না গেলে ঘরে বোরো ধান কাটার জন্য শ্রমিকের মজুরি দেওয়া সম্ভবপর হবেনা। উপরন্তু তামাক একটি পচনশীল কৃষিপণ্য বিধায় এই মুহূর্তে এটি বিক্রয় করা না গেলে উৎপাদিত তামাক নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। করোনাত্তোর বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদন প্রক্রিয়া অব্যহত রাখতে তামাক চাষীরা এই মুহূর্তে পরবর্তী ফসলের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।

খাগড়াছড়ি নিউজ/ ‍এ আর/শুক্রবার, ১মে ২০২০ইং।।

মতামত...