বান্দরবানে ভিক্ষুদের ছোয়াইংদানের মধ্যদিয়ে বৌদ্ধ ধর্মাবলাম্বীদের কঠিন চীবর দানোৎসব সম্পন্ন

Bandarban Pic-3নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান ।। বান্দরবানে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কঠিন চীবর (কাপড়) দানোৎসব সম্পন্ন হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে রাজগুরু ক্যায়াংয়ের প্রধান ভিক্ষু মহাথের উচিহ্লা ভান্তের নেতৃত্বে প্রায় তিন শতাধিক ভিক্ষু রাজগুরু বৌদ্ধ ক্যায়াং থেকে মধ্যমপাড়া ও উজানীপাড়া পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার পথ পাঁয়ে হেঁটে ছোয়াংই উত্তোলন করেন।

এতে অন্যন্যের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপিসহ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী পাহাড়ি নেতারা ধর্মীয় এই উৎসবে অংশ নেন।

এ সময় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী, শিশু-কিশোররা সাড়িবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের খাবার, কাপড়, টাকাসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দান করেন।

বৌদ্ধ ধর্মের রীতি অনুযায়ী তিন মাস বর্ষাবাস শেষে উৎসাহ উদ্দীপনায় প্রবারণা উৎসব পালনের পর বৌদ্ধ পল্লীগুলোতে কঠিন চীবর দান উৎসবের আয়োজন করা হয়। প্রচলিত আছে গৌতম বুদ্ধ বৌদ্ধ পল্লীগুলোতে পায়ে হেঁটে ঘুরে ঘুরে ছোয়াইং উত্তোলন করতেন। এ কারণে বান্দরবানে এখনো বুদ্ধের সেই সংস্কৃতি পালন করে আসছেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা।

এদিকে বান্দরবানে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মতে, দানোত্তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানে গ্রাম-পাড়া থেকে বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন বয়সী নারী সমবেত হন এবং তারা রুই থেকে প্রথমে সূতা তৈরি,পরে চরকা দিয়ে টাটকা ও সাদা চীবর কাপড় বুনন এবং তাতে লাল রং দিয়ে সেই চীবর তৈরী করেন উপস্থিত ভান্তে গণের নিকট। পরে তৈরীকৃত চীবরগুলো (রং কাপড়) ভিক্ষুদের উৎসর্গ করেন পূণ্যার্থীরা।

বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘদের মতে সমাজে মহামানব গৌতম বুদ্ধের অহিংস বাণী,নীতি-আদর্শ,ত্যাগ ও মৈত্রীপূর্ণ আচরণ প্রতিফলিত হলে সমাজে এতো বেশি হিংসা-বিদ্ধেষ,হানাহানি ও মোহ সৃষ্টি হতো না।পূণ্যার্থীদের উদ্দেশ্যে ভিক্ষুসংঘ কঠিন চীবর দানের ফল তুলে ধরে বুদ্ধের নীতি-আদর্শ মেনে শীল পালনের আহ্বান জানান ভিক্ষু সংঘ।

গৌতম বুদ্ধের প্রবর্তিত নিয়মে তিনমাস বর্ষাবাস পালন শেষে দায়ক-দায়িকারা আশ্বিনী পূর্ণিমা থেকে কার্ত্তিক পূণিমা পর্যন্ত বৌদ্ধ বিহারে কঠিন চীবর দানোৎসব উদযাপন করেন।

খাগড়াছড়ি নিউজ/এসএইচ/বিবি/শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০১৫ইং-।।

মতামত...